কাঁদো নদী
ধারাবাহিক উপন্যাস
পর্ব–১ : ভণ্ড পীরের আগমন
কলমে: নাট্যকার মোঃ মনির সরদার
কাঁদো নদীর জল যেন বছরের পর বছর মানুষের কান্না বয়ে নিয়ে চলে। বর্ষায় নদী ফুলে-ফেঁপে ওঠে, আবার ভাঙনের মুখে হারিয়ে যায় মানুষের ঘর, জমি আর স্বপ্ন। নদীর পাড়ের মানুষ দারিদ্র্য আর দুর্ভোগের সঙ্গে লড়াই করেই জীবন কাটায়।
ঠিক এমন এক সময় গ্রামে এসে হাজির হলো এক অচেনা লোক। মাথায় সবুজ পাগড়ি, গায়ে সাদা জুব্বা, হাতে লম্বা তসবিহ। নিজের নাম বলল— রাজিব শাহ।
সে নদীর পাড়ে একটি ছোট্ট কুঁড়েঘর বানিয়ে থাকতে শুরু করল। কয়েক দিনের মধ্যেই গুজব ছড়িয়ে পড়ল—রাজিব শাহ নাকি অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। তার ফুঁ দেওয়া পানিতে নাকি রোগ ভালো হয়, তাবিজ নিলে নাকি ব্যবসায় লাভ হয়, আর দোয়া নিলে সংসারের অশান্তি দূর হয়ে যায়।
সরল-সোজা গ্রামের মানুষ দলে দলে তার কাছে আসতে লাগল। কেউ চাল দিল, কেউ টাকা, কেউ আবার নিজের হাঁস-মুরগি নিয়ে হাজির হলো “নজরানা” হিসেবে।
রাজিব শাহ সবার সামনে ধর্মীয় কথা বলত, চোখ বন্ধ করে দীর্ঘ মোনাজাত করত, আর মানুষ আবেগে কেঁদে ফেলত। কিন্তু তার চোখের গভীরে লুকিয়ে ছিল অন্য এক হিসাব—মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে নিজের সাম্রাজ্য গড়ার স্বপ্ন।
গ্রামের প্রবীণ মানুষ আব্দুল করিম একদিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
— “ধর্ম মানুষকে সত্যের পথে ডাকে। কিন্তু সত্য আর প্রতারণার পার্থক্য বুঝতে না পারলে, বিশ্বাসই একদিন মানুষের সবচেয়ে বড় সর্বনাশ ডেকে আনে।”
সেই কথা শুনে পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা তরুণ শিক্ষক আরিফ চুপচাপ নদীর দিকে তাকিয়ে রইল। কাঁদো নদীর ঢেউ যেন অজানা কোনো রহস্যের ইঙ্গিত দিচ্ছিল।
রাজিব শাহের আগমনে গ্রামের ভাগ্য কি বদলাবে, নাকি শুরু হবে নতুন এক প্রতারণার অধ্যায়?

No comments:
Post a Comment