ধারাবাহিক উপন্যাস: আমাদের পরিবার-পর্ব-১ - July24bd

Breaking

script> atOptions = { 'key' : 'bbc99ef66f096113d23e563799348298', 'format' : 'iframe', 'height' : 60, 'width' : 468, 'params' : {} };

Wednesday, 11 March 2026

ধারাবাহিক উপন্যাস: আমাদের পরিবার-পর্ব-১

ধারাবাহিক উপন্যাস: আমাদের পরিবার-পর্ব-১ কলমে নাট্যকার মোঃমনির সরদার গোসাইরহাট ,শরীয়তপুর
গ্রামের নাম শান্তিপুর। ছোট্ট সবুজে ঘেরা একটি গ্রাম। গ্রামের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে এক পুরোনো দোতলা বাড়ি। লাল ইটের দেয়াল, বড় বারান্দা, আর উঠোনের মাঝখানে বিশাল এক আমগাছ। এই বাড়িটাই রহমান পরিবারের। এই পরিবারের প্রধান মানুষটি হলেন আবদুল রহমান। গ্রামের সবাই তাকে খুব সম্মান করে। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক। তার স্ত্রী রাহেলা বেগম একজন খুবই স্নেহশীলা মানুষ। বাড়ির সবাইকে নিয়ে তিনি যেন এক অদৃশ্য সুতোয় পরিবারটাকে বেঁধে রেখেছেন। রহমান দম্পতির তিন সন্তান। বড় ছেলে কামাল, মেজো মেয়ে সালমা আর ছোট ছেলে রাশেদ। কামাল শহরে চাকরি করে। মাঝে মাঝে গ্রামে আসে। সালমা বিয়ে হয়ে পাশের গ্রামে থাকে। আর রাশেদ এখনো কলেজে পড়ে এবং বাবার সাথে বাড়িতেই থাকে। এই বাড়িটা শুধু একটা বাড়ি নয়। এই বাড়ির প্রতিটি দেয়ালে লুকিয়ে আছে অনেক স্মৃতি। ছোটবেলায় তিন ভাইবোন এই উঠোনে কত খেলাধুলা করেছে! আমগাছের ডালে দোল খেয়েছে, পুকুরে সাঁতার কেটেছে। একদিন বিকেলে রহমান সাহেব বারান্দায় বসে পুরোনো ডায়েরি পড়ছিলেন। হঠাৎ তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। রাহেলা বেগম জিজ্ঞেস করলেন, — কী হয়েছে? এত চিন্তা করছেন কেন? রহমান সাহেব ধীরে বললেন, — জানো রাহেলা, মনে হচ্ছে আমাদের পরিবারটা আগের মতো আর নেই। সবাই যেন ধীরে ধীরে দূরে চলে যাচ্ছে। রাহেলা বেগম একটু হাসলেন। — পরিবার কখনো ভেঙে যায় না। শুধু সময়ের সাথে বদলে যায়। কিন্তু রহমান সাহেবের মনে যেন অজানা এক দুশ্চিন্তা। তিনি জানেন না সামনে কী অপেক্ষা করছে। ঠিক তখনই উঠোনে হঠাৎ একটা মোটরসাইকেলের শব্দ শোনা গেল। রাশেদ দৌড়ে এসে বলল, — বাবা! বড় ভাইয়া এসেছে! রহমান সাহেব অবাক হয়ে উঠলেন। কারণ কামাল সাধারণত আগাম খবর দিয়ে আসে। কামালের মুখটা দেখে রহমান সাহেবের বুকটা ধক করে উঠল। কারণ তার মুখে আনন্দের চেয়ে অদ্ভুত এক দুশ্চিন্তার ছাপ। কামাল ধীরে বলল, — বাবা… তোমাদের সাথে আমার খুব জরুরি একটা কথা আছে। উঠোনের বাতাস যেন হঠাৎ ভারী হয়ে গেল। কি সেই কথা? সেই কথাই হয়তো বদলে দিতে পারে এই পরিবারের ভবিষ্যৎ।

No comments:

Post a Comment