অপমানের মাশুল
দ্বীন ইসলাম আনছারী
অপমানের তীব্র হলাহল যখন কোনো শান্ত বুকে এসে আছড়ে পড়ে, তখন সেখানে কোনো যুদ্ধ ঘোষণা হয় না। সেখানে এক নিস্তব্ধ বসন্ত নিঃশব্দে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তুমি যখন হাসতে হাসতে বিষাক্ত তিরগুলো ছুঁড়ছিলে আমার দিকে, আমি তখন তোমার ঔদ্ধত্য দেখিনি, আমি দেখছিলাম এককালের চেনা একটা মানুষের চরম দেউলিয়াপনা।
অপমান আসলে একটা অদৃশ্য ঋণ। মানুষ ভাবে কথা উবে যায় বাতাসে, কিন্তু প্রতিটি নির্মম শব্দ মাটির গভীরে বীজের মতো লুকিয়ে থাকে। সে মাটি একদিন কেঁপে উঠে। অবহেলার সেই কাঁটাগুলো যখন মহীরুহ হয়ে তোমার নিজের আঙিনাই অবরুদ্ধ করে তুলবে, সেদিন হয়তো তুমি টের পাবে, পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী পাথরের নাম 'অনুতাপ'।
আমি কোনো প্রতিশোধের মালা গাঁথিনি, কোনো অভিশাপের চিতা জ্বালাইনি। আমার নীরবতাই ছিল আমার আত্মপক্ষ সমর্থন। আজ যখন সময়ের নিয়তি তোমাকে এনে দাঁড় করিয়েছে একই কাঠগড়ায়, তখন আমার কোনো উল্লাস নেই, কেবল এক অদ্ভুত শূন্যতা আছে। জীবনের এই নিষ্ঠুর খেলায় আজ তোমাকে চড়া সুদে শোধ করতে হচ্ছে সেই অবহেলার ঋণ।
অপমানের মাশুল কোনো সস্তা মুদ্রায় চোকানো যায় না বন্ধু! এর মূল্য দিতে হয় নিজের ক্ষয়ে যাওয়া অহংকার আর একাকী রাতের দীর্ঘশ্বাসে।

No comments:
Post a Comment