মোঃ মুক্তাদির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ১৭ বছর বয়সী সাহেরা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী শ্যামল (২১) হত্যার দায় স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত সাহেরা (১৭) টাঙ্গাইলের মধুপুর এলাকার বাসিন্দা। প্রায় এক বছর আগে ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার ভাটিকাশর এলাকার সিরাজের ছেলে শ্যামল (২১)-এর সঙ্গে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানাধীন মৌচাক লোহাকৈর জামতলা এলাকায় মানিক মিয়ার টিনশেড ঘরে ভাড়া থাকতেন।
নিহত সাহেরা একটি স্পিনিং মিলে চাকরি করতেন। তার স্বামী শ্যামল বিভিন্ন গাড়িতে হেলপার হিসেবে কাজ করতেন। পুলিশের তথ্যমতে, শ্যামল মাদকাসক্ত ছিলেন।
গত ১০ জুন ২০২৬ ভোররাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে নিহতের পরিবারের সদস্যরা সাহেরার মৃত্যুর খবর পান। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের মেঝেতে সাহেরার মরদেহ দেখতে পান। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।
এ ঘটনায় নিহতের মা জাকিয়া বেগম কালিয়াকৈর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কালিয়াকৈর থানায় মামলা নম্বর-৩২, তারিখ ১৪ জুন ২০২৬, ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোডে মামলা রুজু করা হয়।
মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন কালিয়াকৈর থানার এসআই (নিঃ) মোঃ ওমর ফারুক।
ঘটনার পর নিহতের স্বামী শ্যামল পালিয়ে যায়। পরে তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে শ্যামল (২১), মানিক মিয়া (৪০) ও রমেশ (৩৫)-কে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের আদালতে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হলে বিজ্ঞ আদালত শ্যামলকে দুই দিন এবং অপর দুই আসামিকে এক দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় শ্যামল পুলিশকে জানায়, সে নিজেই তার স্ত্রী সাহেরাকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে।
পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্যামলকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার জন্য বিজ্ঞ আদালতে পাঠান। সেখানে শ্যামল তার স্ত্রী সাহেরাকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সে বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment