পলাশে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে জমি জবরদখল ও কাঁঠাল গাছ কাটার অভিযোগ - July24bd

Breaking

script> atOptions = { 'key' : 'bbc99ef66f096113d23e563799348298', 'format' : 'iframe', 'height' : 60, 'width' : 468, 'params' : {} };

Wednesday, 26 August 2026

পলাশে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে জমি জবরদখল ও কাঁঠাল গাছ কাটার অভিযোগ

 


মোঃ মুক্তাদির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:

নরসিংদীর পলাশে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে জমি জবরদখলের চেষ্টা ও প্রায় ৩০ বছরের পুরোনো কাঁঠাল গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা মোঃ কামাল হোসেন (মেম্বার) ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জমির মালিক অমিত মোস্তফা খাঁন পলাশ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ সকালে পলাশ থানাধীন গাবতলী মৌজায় অমিত মোস্তফা খাঁনের ভোগদখলীয় জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে একটি পুরোনো কাঁঠাল গাছ কেটে ফেলা হয়। একই সময় জমিতে ঘর নির্মাণের উদ্দেশ্যে চারটি সিমেন্টের পিলার রেখে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

অমিত মোস্তফা খাঁনের দাবি, তার ভাড়াটিয়া কুতুবউদ্দিন মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে সেখানে থাকা ব্যক্তিরা জানান, কামাল মেম্বারের নির্দেশে তারা গাছ কাটছেন। পরে তারা দ্রুত কাটা গাছ সরিয়ে নিয়ে জমিতে চারটি সিমেন্টের পিলার রেখে চলে যান।

এ ঘটনায় অমিত মোস্তফা খাঁন বাদী হয়ে ১৭ আগস্ট পলাশ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে অমিত মোস্তফা খাঁন উল্লেখ করেন, গাবতলী মৌজার আরএস ৬৫ নম্বর খতিয়ানের আরএস ১৮৮ নম্বর দাগে থাকা ৩০ শতাংশ জমির মধ্যে ৫ শতাংশ জমি নিয়ে কামাল হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও বিরোধের সমাধান হয়নি। পরবর্তীতে তিনি নরসিংদীর আদালতে ১৮/২০২৫ নম্বর মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করেন তিনি।

অমিত মোস্তফা খাঁনের ভাড়াটিয়া ফরহাদ মিয়া জানান, তিনি প্রায় সাত মাস ধরে ওই সম্পত্তিতে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছেন। তার দাবি, সম্প্রতি কামাল মেম্বার দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে তাদের দোকান ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কামাল মেম্বার বলেন, সম্পত্তির একটি অংশ তার কাছে বিক্রির কথা ছিল। তিনি দাবি করেন, তিনি অমিত মোস্তফা খাঁনের বড় ভাই মোস্তাকিন খাঁনের কাছ থেকে ১ দশমিক ২০ শতাংশ জমি কিনেছেন। জমি নিয়ে আদালতে মামলা হওয়ায় তিনি দোকানদারদের জায়গা ছেড়ে দিতে বলেছেন বলেও জানান।

গাছ কাটার বিষয়ে কামাল মেম্বারের দাবি, “তারা আমার গাছ কেটেছে, তাই আমিও তাদের গাছ কেটেছি।”

এ বিষয়ে পলাশ থানার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সরেজমিনে গিয়ে গাছ কাটার সত্যতা পেয়েছেন এবং অমিত মোস্তফা খাঁনের জমির ওপর চারটি সিমেন্টের পিলারও পাওয়া গেছে। জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য অমিত মোস্তফাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় বিজ্ঞ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অমিত মোস্তফা খাঁন বলেন, তার বাবা তিন ভাইয়ের নামে জমি লিখে দিয়েছেন। বড় ভাইয়ের বিক্রি করা ১ দশমিক ২০ শতাংশ জমি নিয়ে তিনি আদালতে মামলা করেছেন। তার দাবি, মামলা করাটাই যেন তার অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি নিজেও বিএনপির কালীগঞ্জ পৌর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, “আমার জমি কেন দখল করতে হবে, সেটাই আমার প্রশ্ন। সম্পত্তি রক্ষায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা চাই।”

জমি সংক্রান্ত বিরোধ, গাছ কাটার অভিযোগ এবং আদালতে চলমান মামলার বিষয়ে আইনগতভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।

No comments:

Post a Comment