মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১২ বছরের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ, হুমকিতে এলাকা ছাড়ার দাবি - July24bd

Breaking

script> atOptions = { 'key' : 'bbc99ef66f096113d23e563799348298', 'format' : 'iframe', 'height' : 60, 'width' : 468, 'params' : {} };

Saturday, 29 August 2026

মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১২ বছরের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ, হুমকিতে এলাকা ছাড়ার দাবি

 



নিজস্ব প্রতিবেদক:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক ও তার সহযোগীদের হুমকির মুখে ওই শিক্ষার্থীসহ তার পরিবার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।

তবে অভিযুক্ত শিক্ষক সালাউদ্দিন হুজুরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা পাঠানো হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, মেয়েটির বয়স যখন ৬ বছর, তখন তার বাবা-মা তাকে বাড়ির নিকটবর্তী একটি নুরানি মাদ্রাসায় ভর্তি করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, একই মাদ্রাসার শিক্ষক শিবনগর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে সালাউদ্দিন হুজুর (৩৫) নিয়মিত ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে তাকে প্রাইভেট পড়াতেন।

পরিবারের অভিযোগ, গত ২ জুন ২০২৬ সকাল ৯টার দিকে প্রতিদিনের মতো ওই শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। কিছুদূর যাওয়ার পর তার শিক্ষক সালাউদ্দিন হুজুর তার সামনে উপস্থিত হন। পরে কৌশলে তাকে রাস্তা থেকে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

এদিকে মাদ্রাসা ছুটির প্রায় দুই ঘণ্টা পার হলেও শিক্ষার্থী বাড়িতে ফিরে না আসায় তার বাবা-মা মাদ্রাসায় গিয়ে খোঁজ নেন। তখন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই শিক্ষার্থী সেদিন মাদ্রাসায় যায়নি।

পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর বাবা-মা জানতে পারেন, তাদের মেয়েকে তার শিক্ষক সালাউদ্দিন হুজুর রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরপর তারা সালাউদ্দিন হুজুরের বাড়িতে গিয়ে মেয়ের বিষয়ে জানতে চান। তবে অভিযোগ রয়েছে, সালাউদ্দিন হুজুর ও তার পরিবারের সদস্যরা কোনো সন্তোষজনক জবাব না দিয়ে তাদের হুমকি-ধামকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন। পরবর্তীতে কয়েকবার সেখানে গেলেও একই ধরনের আচরণের শিকার হন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।

পরিবারের দাবি, সামাজিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে প্রথম দিকে তারা বিষয়টি প্রকাশ করেননি। প্রায় এক সপ্তাহ মেয়ের কোনো সন্ধান না পেয়ে তারা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানান। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও কয়েকদিন চেষ্টা করেও শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে তাদের পরামর্শে শিক্ষার্থীর বাবা-মা গত ১৪ জুন শিবগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরদিন থানার এএসআই শাহজাহান মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সালাউদ্দিন হুজুরের বাড়ি থেকে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে বলে পরিবারের দাবি।

পরবর্তীতে শিক্ষার্থীকে মোবারকপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বাবুল আলীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তিনি শিক্ষার্থীকে তার বাবা-মায়ের কাছে বুঝিয়ে দেন বলে জানা গেছে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, এর পরের দিন সালাউদ্দিন হুজুর ২০ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে আসেন এবং তাকে পুনরায় তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

এ সময় শিক্ষার্থীর বাবা বাড়িতে না থাকায় তার মা ও নানি বাধা দেন। বাধা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীর নানি আহত হন বলে পরিবারের অভিযোগ। পরে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষার্থীকে আবার তুলে নেওয়া হবে এবং পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এরপর নিরাপত্তাহীনতার কারণে শিক্ষার্থীর মা ও নানি তাকে নিয়ে রাতের অন্ধকারে এলাকা ছেড়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন বলে জানিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মায়ের অভিযোগ, পরে সালাউদ্দিন হুজুর ও তার লোকজন তাদের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন এবং থানার আশপাশেও অবস্থান নেন। এ কারণে নিরাপত্তাহীনতার ভয়ে তারা থানায় যেতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।

প্রায় এক সপ্তাহ পর সুযোগ বুঝে গত ৩০ জুন শিক্ষার্থীর মা, নানি ও এক আত্মীয় শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে গিয়ে বিষয়টি জানান। সেখান থেকে তাদের থানায় গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে পরিবার জানিয়েছে।

পরে তারা পুনরায় শিবগঞ্জ থানায় গিয়ে অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে দেখা করে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করতে চান। তবে অভিযোগ রয়েছে, থানার অফিসার ইনচার্জ মামলা গ্রহণ না করে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

পরিবারের অভিযোগ, এর দুই দিন পর শিবগঞ্জ থানার এএসআই স্বপন কুমার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাদের বাড়িতে এসে শিক্ষার্থীকে খোঁজাখুঁজি করেন। এ সময় শিক্ষার্থীর মা খোঁজাখুঁজির কারণ জানতে চাইলে এএসআই জানান, সালাউদ্দিন হুজুর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, তাই পুলিশ শিক্ষার্থীকে খুঁজছে।

পুলিশ শিক্ষার্থীকে বাড়িতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের তিন দিনের মধ্যে তাকে হাজির করার জন্য নির্দেশ দিয়ে চলে যায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে কোনো উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার গত ৬ জুলাই ২০২৬ চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতে ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা গ্রহণ না করার কারণ জানতে চেয়ে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখের মধ্যে লিখিতভাবে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে মামলার বাদীপক্ষ জানিয়েছে।

অভিযুক্ত সালাউদ্দিন হুজুরের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।


No comments:

Post a Comment