সিলেটের পাথর কোয়ারীগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় চরম সংকটে পড়েছেন এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের হাজারো পরিবার। একসময় বিছনাকান্দি, ভোলাগঞ্জ, জাফলং, লোভাছড়া ও আশপাশের পাথর কোয়ারীগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল স্থানীয় অর্থনীতির একটি বড় ভিত্তি। কোয়ারী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচন এলেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা পাথর কোয়ারী চালুর আশ্বাস দেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন আর দেখা যায় না। ফলে বছরের পর বছর ধরে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।শ্রমিকদের দাবি, পরিবেশ রক্ষা নিশ্চিত করে আদালতের নির্দেশনা ও সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে যেখানে সম্ভব সেখানে সীমিত পরিসরে পাথর উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হলে হাজারো পরিবার আবারও জীবিকা ফিরে পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আসবে।
এদিকে চলতি বছর সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ ও আইনগত বিষয় বিবেচনায় রেখে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু এলাকায় সীমিতভাবে পাথর উত্তোলনের সম্ভাবনা যাচাই করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। তবে এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
স্থানীয় সর্বস্তরের জনসাধারণের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকার পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে এমন একটি টেকসই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, যাতে একদিকে প্রকৃতি রক্ষা পায়, অন্যদিকে দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকা শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের জীবন-জীবিকাও স্বাভাবিক হয়।

No comments:
Post a Comment