ইরানে খামেনির অনুপস্থিতি: বিশ্বজুড়ে জল্পনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি - July24bd

Breaking

July24bd

বাংলাদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক সংবাদ, খেলাধুলা, বিনোদন ও ব্রেকিং নিউজের বিশ্বস্ত বাংলা নিউজ পোর্টাল।

script> atOptions = { 'key' : 'bbc99ef66f096113d23e563799348298', 'format' : 'iframe', 'height' : 60, 'width' : 468, 'params' : {} };

Monday, 9 February 2026

ইরানে খামেনির অনুপস্থিতি: বিশ্বজুড়ে জল্পনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দীর্ঘ ৩৭ বছরের এক অনন্য নজির ভেঙে দেশটির বিমান বাহিনীর বার্ষিক সভায় অনুপস্থিত ছিলেন, যা নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রতি বছর ৮ ফেব্রুয়ারি বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ করে আসছিলেন খামেনি। এমনকি বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারির চরম সংকটের সময়েও তিনি এই ঐতিহ্যবাহী দিবসটি পালন থেকে বিরত থাকেননি। তবে গত রবিবার অনুষ্ঠিত এই বার্ষিক সভায় খামেনির আকস্মিক অনুপস্থিতি এবং তাঁর পরিবর্তে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল সাইয়্যেদ আব্দুর রহিম মুসাভির অংশগ্রহণ বিষয়টিকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছে। প্রতি বছর ৮ ফেব্রুয়ারি দিনটি ইরানি বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭৯ সালের এই দিনে বিমান বাহিনীর একদল সদস্য ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি রুহুল্লাহ খোমেনির প্রতি আনুগত্যের শপথ নিয়েছিলেন, যা দেশটিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের স্মরণে প্রতি বছর বিমান বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার ও কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে দেখা করেন। টানা তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই প্রথায় প্রথমবারের মতো খামেনির অনুপস্থিতি ইরানি প্রশাসনের ভেতরে বড় কোনো পরিবর্তনের বা আসন্ন কোনো সংকটের আভাস দিচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। এই অনুপস্থিতির কারণ নিয়ে বর্তমানে নানা গুঞ্জন চাউর হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের বর্তমান চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এই জল্পনার মূলে রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ইরানের ওপর তুমুল হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলও ইরানে সরকার পতনের লক্ষ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে খামেনির জনসম্মুখে না আসা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকা তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি কৌশল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন বা ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কায় খামেনিকে হয়তো অত্যন্ত গোপন ও সুরক্ষিত কোনো স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আবার খামেনির বয়স ও শারীরিক অবস্থা নিয়েও পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোতে নানা প্রশ্ন উঠছে। তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর এই অনুপস্থিতিকে নিছক স্বাস্থ্যগত কারণের চেয়ে কৌশলগত ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট হিসেবেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই বিষয়ে সরাসরি কোনো কারণ ব্যাখ্যা না করায় ধোঁয়াশা আরও বেড়েছে। যুদ্ধের দামামা এবং সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার মধ্যে খামেনির এই প্রথাভঙ্গ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন কোনো ঝড়ের পূর্বাভাস দিচ্ছে কি না, তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার পারদ যখন তুঙ্গে, তখন সর্বোচ্চ নেতার এমন রহস্যজনক নীরবতা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে

No comments:

Post a Comment