হায়রে মানুষ
মোহাম্মদ দ্বীন ইসলাম আনছারী
ভোর হতে না হতেই আমরা সবাই একটা অলিখিত দাসখতে সই করি। অ্যালার্মের কর্কশ শব্দে যখন চোখ খোলে, তখন স্বপ্নেরা মিলিয়ে যায়। জেগে উঠে এক অদ্ভুত তাড়না।
আমরা কেউ আর সূর্যের আলো দেখে জাগি না, আমরা জাগি একটা অদৃশ্য চাবুকের আঘাতে। সেই চাবুকের নাম টাকা।
পকেটের ওই কয়েক টুকরো কাগজের নোট, কিংবা ব্যাংকের স্ক্রিনে ভেসে উঠা কিছু ডিজিটাল সংখ্যা ওরাই এখন আমাদের ভাগ্যবিধাতা।
আমরা ভালোবাসাকে মাপি ওজনের দাঁড়িপাল্লায়, আর সম্পর্কগুলোকে যাচাই করি লাভ-ক্ষতির খতিয়ানে। মানুষ এখন আর মানুষের দিকে তাকায় না, তাকায় তার সামর্থ্যের দিকে। যার যত বেশি উজ্জ্বল কাগজের টুকরো, তার দিকে তত বেশি ঝুঁকে পড়ে সমাজের মেরুদণ্ড।
হায়রে মানুষ! যে ঈশ্বরকে মানুষ নিজের প্রয়োজনে তৈরি করেছিল, আজ সেই কাগজের ঈশ্বর মানুষকে নিজের পায়ের নিচে পিষে মারছে।
আমরা হাসি বিক্রি করে দিই মাসমাইনের কাছে, বিবেককে বন্ধক রাখি পদোন্নতির লোভে।
আমাদের বিবেক এখন ফুটপাথের সস্তা পণ্যের মতো, একটু বেশি দর পেলেই যে কেউ তা কিনে নিতে পারে।
আমরা ভাবি আমরা স্বাধীন, অথচ দিনশেষে আমরা সবাই ওই গোলাকার মুদ্রার বৃত্তে বন্দি একেকজন ক্রীতদাস।
বিকেলের আলো যখন ফুরিয়ে আসে, তখন বড় বড় অট্টালিকার কাচের জানালায় ছায়া পড়ে আমাদের ক্লান্ত অবয়বের।
আমরা বাড়ি ফিরি, কিন্তু সঙ্গে করে কোনো মানসিক শান্তি নিয়ে ফিরি না।
আমাদের রক্তে মিশে গেছে এক অদ্ভুত নেশা। আরো চাই, আরো একটু বেশি!
এই অন্তহীন দৌড়ে আমরা কখন যে নিজেদের আত্মাটাকে বিক্রি করে দিয়েছি, তা নিজেরাও টের পাইনি।
পৃথিবীটা আজ সত্যিই এক মস্ত বড় বাজার, যেখানে মানুষ নিজেই নিজের সবচেয়ে সস্তা পণ্য।

No comments:
Post a Comment