গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি:
সিলেটের গোয়াইনঘাটে বর্ষা প্লাবিত প্লাবনভূমি ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে ২৬৩ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ পুকুরে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে এসব পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় বর্ষা প্লাবিত প্লাবনভূমি ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় রুই, কাতলা ও মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা জলাশয়ে ছাড়া হয়।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী।
এ সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুর রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পোনামাছ অবমুক্তকরণ শেষে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুর রহমান বলেন, হাওর ও জলাশয়ে নির্বিচারে মাছ ধ্বংসের কারণে দেশীয় মাছের উৎপাদন দিন দিন কমে যাচ্ছে। নদী-নালা ও জলাশয়ে পানি থাকলেও আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, বিশেষ করে অবৈধ জাল ব্যবহার করে মাছের পোনা ও ছোট মাছ নিধনের ফলে দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি, দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে বর্ষা প্লাবিত প্লাবনভূমি ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্ত করা হচ্ছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন পুকুর ও জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্তের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশীয় মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণে এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে অবমুক্ত করা পোনামাছ নির্বিঘ্নে বেড়ে উঠতে হলে সবাইকে মাছের অভয়াশ্রম রক্ষায় সচেতন হতে হবে।
পাশাপাশি অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকার বন্ধে সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

No comments:
Post a Comment