![]() |
| সিলেটে এক দিনের ব্যবধানে দুই প্রবাসীর খুন |
সিলেটে এক দিনের ব্যবধানে দুই প্রবাসীর খুন হয়েছেন। এই দুই হত্যা রহস্য এখনো উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। কেন তাদের হত্যা করা হয়েছে তাও জানা যায়নি।
গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জকিগঞ্জের সুলতানপুর ইউনিয়নের কোনারবন্দ হাওর থেকে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বোরহান উদ্দিন শফির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আর ওইদিন রাত ১০টার দিকে কোম্পানীগঞ্জের কামলাঘাট সীমান্ত এলাকায় ঝোপের ভেতর থেকে কিরগিজস্তানপ্রবাসী ইমরান আহমদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তবে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বোরহান উদ্দিন শফি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এখনও ক্লু মেলেনিও। তাঁর সঙ্গে মোটরসাইকেলে থাকা এক যুবককে খোঁজ করছে বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা। তাঁর সন্ধান পাওয়া গেলে হত্যার জট খুলতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।
শফি হত্যাকান্ড নিয়ে জকিগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা ঘটনাটি তদন্ত করছে। প্রবাসীর সঙ্গে থাকা যুবককে পাওয়া গেলে রহস্য বেরিয়ে আসতে পারে।
দেশে ফেরার পর চার দিনের মাথায় গত মঙ্গলবার জকিগঞ্জের সুলতানপুর ইউনিয়নের কোনারবন্দ হাওর থেকে শফির লাশ উদ্ধার করা হয়। শফির মুখ আগুন দিয়ে পোড়ানো ও গলায় দড়ি প্যাঁচানোর ক্ষত ছিল। তিনি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর শহরের হবিবপুর আশিঘর গ্রামের সমছু মিয়ার ছেলে। নগরীর চৌকিদেখী বাসা থেকে ৩০ জানুয়ারি তিনি কুলাউড়ার উদ্দেশে বের হয়ে নিখোঁজ হন।
গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে কুলাউড়া যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন যুক্তরাজ্য প্রবাসী বুরহান উদ্দিন শফি (৫৪)। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় শফির বোন আসমা জাহান সাধারণ ডায়রি করেন। নিখোঁজের ৪ দিন পর মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জকিগঞ্জের সুলতানপুর ইউনিয়নের কোনারবন্দ হাওর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটি আগুনে পোড়ানো ও গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
সেই সাথে মরদেহের পাশেই পাওয়া যায় লবণের একটি প্যাকেট। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও মরদেহ উদ্ধারের পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর একটি টিম মরদেহের পরিচয় প্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্ত করে। নিহত বুরহান উদ্দিন শফি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর শহরের হবিবপুর আশিঘর গ্রামের সমছু মিয়ার ছেলে।
তবে শফি যেদিন বাসা থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে যান সেসময় এক যুবক তার সাথে ছিলেন। সেই যুবককে শফির পরিবারের কেউই চিনেন না। সিসি ক্যামেরা ফুটেজে এ দৃশ্যটি ধরা পড়ার পর নতুন করে মোড় নিয়েছে তদন্তে। সেই যুবককে শনাক্ত করতে পারলেই শফি হত্যার রহস্যের জট খুলতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। ইতোমধ্যে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য দল সেই যুবকের খোঁজে মাঠে নেমেছে।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই, ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশ ঘটনা তদন্ত করছে। পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার খালেদ উজ জামান জানান, একজন পরিদর্শক বিষয়টি তদন্ত করছেন। আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই ক্লু মিলবে।
শফির মরদেহ উদ্ধারের পর ওইদিন রাতে নিখোঁজের দুদিন পরে কোম্পানীগঞ্জের কামলাঘাট সীমান্ত এলাকার ঝোপের ভেতর থেকে ইমরান আহমদ নামে আরেক প্রবাসীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার লামনীগাঁও গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি গত ডিসেম্বরে দেশে ফিরে জানুয়ারিতে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন।
ইমরানকে হত্যার অভিযোগে তাঁর বাবা নজরুল ইসলাম আটজনের নাম উল্লেখ করে বুধবার রাতে মামলা করেন। পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এরা হলেন– লামনীগাঁওয়ের হেলাল আহমদ, কালা মিয়া ও রহিম আলী। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সফিকুল ইসলাম খান জানান, পূর্ববিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মামলার পর পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইমরান আহমদ কিরগিজস্তানপ্রবাসী ছিলেন। তিনি গত ডিসেম্বর দেশে ফেরেন। জানুয়ারিতে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। নিখোঁজের পর পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি চলছিল। মঙ্গলবার বিকালে স্থানীয় লোকজন সীমান্ত এলাকার ঝোপে একটি ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
পরিবারের অভিযোগ, ইমরানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বাবা নজরুল ইসলাম আট জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। ওই মামলায় তিন জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।’

No comments:
Post a Comment