 |
ছবিঃ রহস্যময় হারং হুরং সুড়ঙ্গ
|
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চায়ের দেশ সিলেটে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের নতুন কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে প্রাচীন ও রহস্যময় সুড়ঙ্গপথ ‘হারং হুরং’। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মালনীছড়া চা বাগান-এর গহীনে অবস্থিত এই গুহা ঘিরে যুগ যুগ ধরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা রহস্যময় ও রোমাঞ্চকর গল্প প্রচলিত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘন জঙ্গল ও পাহাড়ি টিলার ভেতরে অবস্থিত এই সুড়ঙ্গটি দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা ছুটে আসছেন। সরু প্রবেশপথ ও ভেতরের অন্ধকার পরিবেশ গুহাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
ইতিহাস ও কিংবদন্তি
ঐতিহাসিক তথ্যমতে, ১৩০৩ সালে মহান সুফি সাধক হযরত শাহজালাল (রহ.) সিলেটে আগমনের সময় সংঘটিত অভিযানে পরাজিত হয়ে সিলেটের শেষ হিন্দু রাজা গৌড় গোবিন্দ এই সুড়ঙ্গপথ ব্যবহার করে পালিয়ে যান বলে ধারণা করা হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, সুড়ঙ্গটি অনেক দীর্ঘ এবং এর গভীরতা এখনো পুরোপুরি নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
‘হারং হুরং’ নামের অর্থ নিয়েও রয়েছে ভিন্ন ব্যাখ্যা। স্থানীয় ভাষায় ‘হারং’ অর্থ সরু এবং ‘হুরং’ অর্থ সুড়ঙ্গ, যা গুহাটির প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পর্যটকদের বাড়তি আগ্রহ
অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকদের কাছে এটি এখন একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। অনেক পর্যটক গুহার ভেতরে প্রবেশ করে এর রহস্যময় পরিবেশ কাছ থেকে উপভোগ করছেন। তবে গুহার ভেতরে অন্ধকার, বাদুড়ের উপস্থিতি এবং অক্সিজেনের স্বল্পতার সম্ভাবনা থাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের মতে, অভিজ্ঞ গাইড ছাড়া গুহার ভেতরে প্রবেশ না করাই নিরাপদ। এছাড়া বর্ষাকালে গুহার ভেতরের পথ পিচ্ছিল হয়ে যায়, তাই শুষ্ক মৌসুম ভ্রমণের জন্য বেশি উপযোগী।
সহজ যাতায়াত সুবিধা
সিলেট শহর থেকে অল্প দূরত্বে অবস্থিত মালনীছড়া চা বাগানে রিকশা বা সিএনজি অটোরিকশায় সহজেই পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে কিছুটা পথ হেঁটে হারং হুরং সুড়ঙ্গে যাওয়া সম্ভব।
ইতিহাস, রহস্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য সংমিশ্রণ হওয়ায় ‘হারং হুরং’ এখন সিলেটের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্থানে পরিণত হয়েছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রচারণা করা হলে এটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
No comments:
Post a Comment