হিন্দুধর্মের জ্ঞানযাত্রা – পর্ব ২ উৎপত্তির আদিম অন্বেষণ: - July24bd

Breaking

July24bd

বাংলাদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক সংবাদ, খেলাধুলা, বিনোদন ও ব্রেকিং নিউজের বিশ্বস্ত বাংলা নিউজ পোর্টাল।

script> atOptions = { 'key' : 'bbc99ef66f096113d23e563799348298', 'format' : 'iframe', 'height' : 60, 'width' : 468, 'params' : {} };

Friday, 13 March 2026

হিন্দুধর্মের জ্ঞানযাত্রা – পর্ব ২ উৎপত্তির আদিম অন্বেষণ:

হিন্দুধর্মের জ্ঞানযাত্রা – পর্ব ২ উৎপত্তির আদিম অন্বেষণ: লেখক: নিশিতা নাজনীন নীলা ছদ্মনাম: আল-মাওয়াকিফ
সিন্ধু সভ্যতা ও প্রাচীন আধ্যাত্মিক চেতনা মানবসভ্যতার ইতিহাসে কিছু অধ্যায় আছে, যেগুলো কেবল ইতিহাস নয় সেগুলো যেন চেতনার গূঢ় প্রতিধ্বনি। হিন্দুধর্মের উৎপত্তিও তেমনই এক রহস্যময় আদি উৎস, যার শিকড় প্রোথিত রয়েছে সিন্ধু নদীর তীরবর্তী প্রাচীন সভ্যতার নীরব প্রস্তরস্তম্ভে। প্রায় চার সহস্রাব্দ পূর্বে, যখন পৃথিবীর বহু অঞ্চল এখনো অন্ধকারে নিমজ্জিত, তখন সিন্ধু উপত্যকায় জন্ম নিচ্ছিল এক বিস্ময়কর সভ্যতা যেখানে মানুষ শুধু নগর নির্মাণ করেনি তারা নির্মাণ করেছিল আত্মার সঙ্গে মহাবিশ্বের সম্পর্কের এক গভীর দার্শনিক সেতুবন্ধন। মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পার ধ্বংসাবশেষ আজও যেন সেই যুগের এক নীরব ভাষ্যকার। সেখানে পাওয়া গেছে ধ্যানমগ্ন এক রহস্যময় পুরুষের মূর্তি, যাকে অনেক ঐতিহাসিক প্রাচীন শৈব চেতনার প্রতীক বলে মনে করেন। এই মূর্তির চোখ বন্ধ, দেহ স্থির, কিন্তু তার নীরবতা যেন ঘোষণা করে “মানবদেহ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আত্মা অনন্তের দিকে যাত্রারত।” এই সভ্যতার মানুষ প্রকৃতিকে শুধুমাত্র পরিবেশ হিসেবে দেখেনি তারা প্রকৃতিকে উপলব্ধি করেছিল এক মহাজাগতিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে। সূর্য তাদের কাছে ছিল আলোর প্রতীক, নদী ছিল জীবনের প্রবাহ, আর বৃক্ষ ছিল চিরন্তন সৃষ্টির প্রতীক। সিন্ধু সভ্যতার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলিতে দেখা যায় নারীমূর্তির প্রাচুর্য। এই নারীমূর্তিগুলো কেবল শিল্প নয় এগুলো ছিল সৃষ্টি ও শক্তির আদিম প্রতীক। পরবর্তীকালে যে দেবীচেতনা হিন্দুধর্মে “শক্তি” নামে পরিচিত হয়, তার প্রাথমিক প্রতিধ্বনি অনেক গবেষক এই নিদর্শনগুলিতেই খুঁজে পান। এই যুগে ধর্ম ছিল না কোনো কঠোর মতবাদ। এটি ছিল অন্তর্জাগতিক উপলব্ধির এক স্বতঃস্ফূর্ত প্রবাহ। মানুষ যখন আকাশের দিকে তাকিয়ে সূর্যের দীপ্তি দেখত, তখন তারা অনুভব করত মহাবিশ্বের এই অসীম সুষমার মধ্যে নিশ্চয়ই রয়েছে এক গভীর নিয়ামক শক্তি। এই উপলব্ধিই ধীরে ধীরে জন্ম দেয় ঋগ্বেদের স্তোত্র, যজ্ঞের আচার, এবং আধ্যাত্মিক দর্শনের বীজ। হিন্দুধর্মের উৎপত্তি তাই কোনো একক মুহূর্তের ঘটনা নয়। এটি এক দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক বিবর্তনের ফল যেখানে মানুষের প্রশ্ন, বিস্ময়, ভয়, আশা এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষা মিলিত হয়ে সৃষ্টি করেছে এক বহুমাত্রিক ধর্মীয় ঐতিহ্য। হিন্দুধর্মের এই আদি অধ্যায় আমাদের শেখায় ধর্মের জন্ম কেবল বিশ্বাস থেকে নয় ধর্মের জন্ম হয় মানুষের অন্তর্গত বিস্ময়বোধ থেকে। যখন মানুষ প্রথমবারের মতো মহাকাশের অসীমতার দিকে তাকিয়ে উপলব্ধি করেছিল নিজের ক্ষুদ্রতা, তখনই তার হৃদয়ে জেগে উঠেছিল এক প্রশ্ন “আমি কে? এই সৃষ্টির অন্তরালে কী শক্তি বিরাজমান? সেই প্রশ্নের অনুসন্ধানই ধীরে ধীরে রূপ নিয়েছে হিন্দুধর্ম নামক এক বিশাল আধ্যাত্মিক মহাবৃক্ষে। পরবর্তী পর্বে আমরা প্রবেশ করব আরও গভীরে যেখানে জন্ম নেয় মানবসভ্যতার প্রাচীনতম ধর্মগ্রন্থসমূহ, এবং প্রতিষ্ঠিত হয় আধ্যাত্মিক দর্শনের মহান ভিত্তি। পর্ব ৩ আসছে: বেদ ও উপনিষদের দার্শনিক জগৎ

No comments:

Post a Comment