চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান লাগাতার কর্মবিরতি ও জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সৃষ্ট মহাবিপর্যয় নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দেশের শীর্ষ ১০ বাণিজ্য সংগঠনের নেতারা। জাতীয় অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড হিসেবে বিবেচিত এই সমুদ্র বন্দর সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ায় তাঁরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিটিএমএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠক শেষে সম্মিলিতভাবে এক যৌথ বিবৃতিতে এই আরজি জানানো হয়।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন বিইএফ সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ), এমসিসিআই সভাপতি কামরান তানভিরুর রহমান, ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ, বিজিএমইএ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার, বিজিবিএ সভাপতি মো. আব্দুল হামিদ এবং বিটিটিএলএমইএ সভাপতি এম শাহাদাত হোসেন।
ব্যবসায়ী নেতারা উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাসে এবারই প্রথম জাহাজ চলাচল পর্যন্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্দর একদিন বন্ধ থাকা মানেই অর্থনীতিতে কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রত্যক্ষ ক্ষতি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাকসহ সকল খাতের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় দেশ এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। একদিকে রপ্তানি খাতের কাঁচামাল কারখানায় পৌঁছাতে পারছে না, অন্যদিকে উৎপাদিত পণ্য শিপমেন্টের অপেক্ষায় পড়ে আছে। এতে করে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ‘ডেডলাইন’ রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে এবং ক্রয়াদেশ বাতিল বা সোর্সিং সরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বন্দর অচলাবস্থায় কনটেইনার জট সৃষ্টি হওয়ায় ডেমারেজ ও পোর্ট চার্জ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সরাসরি উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। সামনেই পবিত্র রমজান মাস। এখনই এই সংকট নিরসন না হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বাজারে পৌঁছাতে দেরি হবে এবং কৃত্রিম সংকটে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। এ ছাড়া শিপমেন্ট সময়মতো না হলে ব্যবসায়ীরা ব্যাংকের দায় পরিশোধ করতে পারবেন না, যা পুরো আর্থিক খাতের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করবে। আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
সরকারকে লক্ষ্য করে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এই মুহূর্তেই বিষয়টি সুরাহা করুন। এনসিটি ইজারা নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে নতুন সরকার পুনরায় পর্যালোচনার সুযোগ রাখতে পারেন। কিন্তু তার জন্য বন্দর অচল রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
একই সাথে বন্দর সচল রাখতে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে তাঁরা বলেন, ‘আপনারা এই বন্দরের প্রাণ। আপনাদের দাবি-দাওয়া সরকারের কাছে পৌঁছানোর অধিকার আপনাদের আছে। তবে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া মানে নিজের ঘরকে নিজেই বিপদে ফেলা। আমরা আপনাদের আহ্বান জানাই-দেশের অর্থনীতির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এই ব্যতিক্রমী অবস্থান থেকে সরে আসুন। নতুন সরকার আপনাদের দাবিগুলো পর্যালোচনার আশ্বাস দিলে বন্দর সচল করাই হবে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় দেশপ্রেম।’ মূলত দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের অস্তিত্ব রক্ষায় অবিলম্বে বন্দর স্বাভাবিক করার কোনো বিকল্প নেই বলে নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

No comments:
Post a Comment